“আইডিয়াথন” বিজয়ী বাংলাদেশি ৫ ‍স্টার্টআপকে নিয়ে ডেমো ডে সিরেমনি আয়োজন করল দক্ষিণ কোরিয়া

মঙ্গলবার ১৭ আগস্ট ২০২১ ১৫:০৭


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের আওতায় iDEA প্রকল্পের একটি অন্যতম উদ্যোগ হল বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া এর যৌথ-আয়োজন “আইডিয়াথন (ideaTHON)” কনটেস্ট। আজ ১৭ আগস্ট ২০২১ মঙ্গলবার এই কনটেস্টের বিজয়ী সেরা ৫ বাংলাদেশি স্টার্টআপকে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬ মাসের প্রশিক্ষণের আওতায় কোরিয়া প্রোডাক্টিভিটি সেন্টার (কেপিসি) কর্তৃক আয়োজন করা হয় “বাংলাদেশ ফ্রন্টিয়ার স্টার্টআপস্ বিজনেস প্রিপ্যারেশন সাপোর্ট” শীর্ষক ভার্চুয়াল ডেমো ডে সিরেমনি। এই আয়োজনে বাংলাদেশি ৫ বিজয়ী স্টার্টআপ বিজ্ঞ বিচারকদের সামনে প্রেজেন্টেশন দেন এবং সবশেষে এএনটিটি রোবোটিক্স লিমিটেড কে প্রথম স্থানকারি বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষনা করা হয়। উক্ত আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে সংযুক্ত হন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি

 

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭৩ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এই কর্মসূচি আয়োজনের জন্য মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কেপিসি এবং বাংলাদেশ ফ্রন্টিয়ার স্টার্টআপস্ বিজনেস প্রিপ্যারেশন সাপোর্ট প্রজেক্টকে ধন্যবাদ জানান যা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের আরেকটি মাইলফলক যোগ করেছে। তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার একটি ভিশন শেয়ার করেন। সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয় বরং এটি একটি অনুপ্রেরণামূলক বাস্তবতা। তিনি অনুষ্ঠানে আরো বলেন, “লকডাউনের কারণে দেশগুলো অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হলেও, “বাংলাদেশ” দেশের মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে। ফলস্বরূপ, শুধুমাত্র আমাদের অর্থনীতি নয়, আমরা একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতিতে গণ-টিকাদানের মত চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করতে পেরেছি।”

 

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন যে, "একাডেমিয়াদের জন্য ইতিমধ্যে স্কুল ও কলেজে ৮০০০ এরও বেশি শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যেখানে যখন ৫০০০ এরও বেশি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং ১৫০০০ এরও বেশি পাইপলাইনে রয়েছে। প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতা মাধ্যমগুলিকে বিকেন্দ্রীভূত করার জন্য প্রায় ৩০০ টি “ফিউচার অব স্কুল” বাস্তাবয়ন করা হচ্ছে যেখানে স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থীদের তাদের কোডিং, প্রোগ্রামিং, ক্রিটিকাল থিংকিং, ডিজাইন থিংকিং এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জন্য তাদের প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা বিকাশের সুবিধা দেওয়া হবে। সারা দেশে ৩৩ টি পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩ টিরও বেশি বিশেষ 4IR প্রযুক্তি ভিত্তিক ল্যাব সরবরাহ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে যাতে নন-গ্র্যাজুয়েট যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরকে লক্ষ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট এবং থিসিস বা রিয়েল লাইফ প্রোডাক্ট সেবার গবেষণাপত্র চালু করে যাতে আমরা বাজারে নতুন ও উপযুক্ত উদ্ভাবন আনতে পারি এবং একাডেমিয়া থেকে শিল্পের মধ্যে একটি নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ তৈরি করতে পারি সেই প্রচেষ্টাও চলমান রয়েছে।

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউন বলেন যে বাংলাদেশী স্টার্টআপ যারা এই প্রোগ্রামে যোগদান করেছে তারা সফলভাবে প্রোগ্রামের প্রত্যাশা এবং প্রাথমিক লক্ষ্যসমূহ পূরণ করেছে। তিনি বাংলাদেশের প্রশংসা করে আরো জানান, বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ২০০৯ সাল থেকে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে এবং দেশটি দারুণ কাজ করছে। বাংলাদেশ সফলভাবে করোনা মহামারী মোকাবেলা করছে এবং এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। পরিশেষে, মাননীয় রাষ্ট্রদূত আইডিয়াথন বিজয়ী যারা দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের ৬ মাসের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তাদের অভিনন্দন জানান।

 

অনলাইন এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-কিউন এবং বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ। অনুষ্ঠানটিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দক্ষিন কোরিয়ার কোরিয়া প্রোডাক্টিভিটি সেন্টার (কেপিসি) এর চেয়ারম্যান আন ওয়াং-জি। এছাড়া, এই আয়োজনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এর নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব জনাব পার্থপ্রতিম দেব, iDEA প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম-সচিব মো: আব্দুর রাকিব

 

উল্লেখ্য, মুজিব শতবর্ষে “Let’s Start You Up” স্লোগান নিয়ে আয়োজিত “আইডিয়াথন” কনটেস্টের বিজয়ী পাঁচ দল গত ডিসেম্বর ২০২০-এ ৩১৪৭টি আবেদনকারীর মধ্যে কঠোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে- কৃষিয়ান, চার ছক্কা লিমিটেড, এএনটিটি রোবোটিক্স লিমিটেড, রক্ষী লিমিটেড এবং ছবির বাক্স এই ৫ বাংলাদেশি স্টার্টআপ বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করে। সবশেষে, গত ৮ মার্চ ২০২১ তারিখ ৬ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এই বিজয়ী দলগুলোর থেকে ১০ জন তরুণ উদ্যোক্তা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ, উদ্ভাবক এবং সফল স্টার্টআপদের সাথে গত ৬ মাস তাদের ব্যবসা ও বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ বিকাশের চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করেন বাংলাদেশের এই তরুণগণ। কোরিয়া প্রোডাক্টিভিটি সেন্টার (কেপিসি) এবং কোরিয়া ইনভেনশন প্রমোশন অ্যাসোসিয়েশন (কাইপা) নামক প্রতিষ্ঠানদ্বয় উক্ত স্টার্টআপদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা ও বেসরকারী বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ সহায়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেটেন্ট, ডিজাইন, কপিরাইট এবং ট্রেডমার্ক অধিকার প্রাপ্তিতেও তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের এই উদীয়মান স্টার্টআপগণ ভবিষ্যতে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দেশের নাম উজ্জ্বল করার পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে, এএনটিটি রোবোটিক্স লিমিটেড তাদের “আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বেইজড লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম” নিয়ে অ্যান্জেল ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে তাদের উদ্ভাবন এডুব্লক-এর ২০০ পিসের বেশি রোবটিক কিটস্ এর মূল্য এবং এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের এক চতুর্থাংশের কাজের খরচের মূল্য বিনিয়োগ ফান্ড হিসেবে গ্রহণের অফার পায়।

 

 

এছাড়া, এ প্রতিযোগিতা ও বিজয়ী ০৫ (পাঁচ)টি স্টার্টআপ এর ১০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬ মাসের প্রশিক্ষণ প্রদানের যাবতীয় খরচ বাবদ প্রায় ৪ কোটি টাকা অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের আওতায় আইডিয়া প্রকল্প হতে বহন করা হয়েছে।

এমএসি/আরএইচ