৩ বছর ধরে গাছে বাঁধা শিশু কাওছারের জীবন

শুক্রবার ১৫ এপ্রিল ২০২২ ১১:৪২


ভোলা প্রতিনিধি
৭ বছরের শিশু কাওছার। মায়াবী চেহারা তার। মুখে ফুটফুটে হাসি লেগে আছে সবসময়। এ সুন্দর চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই সে অসুস্থ। ৩ বছর ধরে গাছের সঙ্গে বাঁধা পড়েছে তার জীবন!
কাওছার যতক্ষণ জেগে থাকে ততক্ষণই তার মা দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে পা দুইটি বেঁধে রাখেন। বাঁধন খুলে রাখলে সে অন্য কোথায়ও চলে যায়, কিংবা ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। এমনকি তাকে জামা-প্যান্ট পরালে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলে দেয়।
 
কাওছার জন্মের পর ১ বছর কথা বলতে পারলেও হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়াতে এখন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
 
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা আমিনাবাদ ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুলসুম বাগ গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. আব্দুল আজিজ ও স্ত্রী খাদিজা দম্পতির তৃতীয় ছেলে কাওছার।
 
আব্দুল আজিজ ও মা খাদিজা বেগম জানান, তার তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে কাওছার তৃতীয়। বাবা কৃষি কাজ করে সংসার চালান। সংসারে অভাব থাকলেও শান্তিতে ছিলো তারা। কিন্তু গত ৭ বছর আগে জন্ম নেয় কাওছার। সুন্দর চেহারা, সাথে মুখে ফুটফুটে হাসি লেগে থাকতো শিশুটির। তিন বছর বয়সেই কথা বলতো শিশুটি। প্রায় ৩ বছর আগে শিশুটি উঠানে খেলতে গেলে মধু পোকা কামড় দেয় তার মাথায়। পরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা করালেও কোন পরিবর্তন না হলে চট্রগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা করেন তারা। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে তাদের। অনেক কষ্টে বিভিন্ন মানুষ ও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ছেলের চিকিৎসা খরচ জোগান তারা। কিন্তু তারপরও শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠেনি।
 
ছেলেডা কথা কয় না। ঘরে ছাইড়া দিলে ঘরের মালামাল সব ভাইঙালায়। ঘরের থোন বাইরা অনেক দূরে চইলা যায়। জামা-কাপুর পড়াইলে ছিঁড়া খুইলালায়। যার কারণে গত তিন বছর ধইরা ছেলেডারে দঁরি দিয়ে বাইন্ধা রাখি। যত সময় সজাগ থাকে তত সময়ই দড়ি দিয়া বাইদ্ধা রাখি। এত ছোট পোলাডারে বাইদ্ধা রাখতে অনেক কষ্ট হয়। তারপরও কি করমু। টাকার লইগা চিকিৎসা করাতে পারিনা। ছেলেডার প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকার ঔষুধ লাগে। কিন্তু টাকার অভাবে দুই মাস ঔষুধ খাওয়াইতে পারিনা। চট্রগ্রামের এক ডাক্তার কইছে কাওছারের ভালো চিকিৎসা করালে আবারও সুস্থ হইবো। এতে দুই লাখ টাকার খরচ হইবো। এতে টাকা কই পামু। কেউ যদি আমাগো গরীবের সাহায্য করে তাইলে ছেলেডার চিকিৎসা করাইয়া সুস্থ্য করে তুলতে পারতাম।
আবদুল আজিজ, কাওছারের বাবা
ছেলের চিকিৎসার জন্য তিনি দেশে-বিদেশের সকল মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল নোমান জানান, বিষয়টি কেউই তাদেরকে অবগত করেনি। এমনকি ছেলেটির বাবা-মাও কখন তার কাছে যায়নি। খোঁজ নিয়ে শিশুটির চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

এমএসি/আরএইচ