স্ত্রী-সন্তান রেখে ছাত্রীকে নিয়ে উধাও শিক্ষক

শনিবার ১৪ মে ২০২২ ০০:১৯


মীর্জা অপু, পাবনা প্রতিনিধি 
পাবনার বেড়ায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী সন্তানকে ফেলে নিজ  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই শিক্ষার্থীর বাবার।
ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা বেড়া উপজেলার নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের বাটিয়াখড়া গ্রামে।
অভিযুক্ত শিক্ষক হাসমত হোসেন পাবনার বেড়া উপজেলার নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের বাটিয়াখড়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে।
তিনি ঐতিহ্যবাহী ভারেঙ্গা একাডেমির খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।এবং ওই শিক্ষক সেই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাকে প্রাইভেট পড়াতেন।
ভারেঙ্গা একাডেমির প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমানের সাথে কথা হলে তিনি শিক্ষার্থী নিয়ে পালানোর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভারেঙ্গা একাডেমির সহকারী শিক্ষক হাসমত হোসেনের কাছে নিজ বাড়িতে প্রাইভেট পড়তো একই প্রতিষ্ঠানের ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রী। প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোমবার (০৯ মে) ওই ছাত্রী যথারীতি স্কুলে যায়। তবে স্কুল ছুটির পর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তার অভিভাবকরা দুদিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেন।
পরে ওই ছাত্রীর সহপাঠীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিভাবকরা গৃহশিক্ষক হাসমত হোসেনের কাছে ফোন করেন। তিনি ওই কিশোরীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং তাকে বিয়ে করেছেন বলেও জানান।
 
এ ঘটনায় বুধবার (১১ই মে) ছাত্রীর বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বেড়া মডেল থানায় হারানোর সাধারণ ডায়েরি করেন।
ছাত্রীর বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসমতকে আমি অনেক বিশ্বাস করতাম। তার কাছে আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তো। কিন্তু সে এত বড় প্রতারক, তা জানতাম না। এ ঘটনায় তিনি ও তার স্ত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানান।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক হাসমত হোসেন সাত বছর আগে বেড়া উপজেলার বাটিয়াখড়া গ্রামের মৃত হিরা মিঞার মেয়ে খাদিজা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
ভারেঙ্গা একাডেমির প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান বলেন, ‘প্রায় এক যুগ ধরে হাসমত এই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। আগে কখনো এমন আচরণ তার মধ্যে লক্ষ্য করিনি। তিনি এমন ন্যাক্কারজনক কাজ করেছেন যে, আমরাও সামাজিকভাবে লজ্জার মধ্যে পড়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর তার (অভিযুক্ত শিক্ষক) সঙ্গে পুলিশ ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কথা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন,মেয়ের বাবা আমাদের কাছে হারানোর জিডি করে।তার প্রেক্ষিতে আমরা এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করি।তদন্ত করে জানতে পারি আসলে মেয়েটি তার গৃহশিক্ষকের সাথে পালিয়ে গেছে।আমরা মেয়েটিকে উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি খুব শীগ্রই তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হব।
 

এমএসি/আরএইচ