লঞ্চঘাটে ৫ টাকার টিকেট ১০, ভোগান্তির শেষ কোথায়?

রবিবার ৮ মে ২০২২ ১৫:২৯


রইসুল ইমন, পটুয়াখালী ::
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নুরাইনপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের জিম্মি করে পাঁচ টাকা মূল্যের প্রবেশ টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে দশ টাকায়। যাত্রীদের বাধ্য করা হচ্ছে দ্বিগুন মূল্যে টিকেট কিনতে। কেউ প্রতিবাদ করলে ইজারা আদায় কারীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে৷ এ যেনো এক মগেরমুল্লুক। 

জানা গেছে, এই লঞ্চঘাটের ইজারাদার উপজেলার  সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসের বাচ্চু।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটে টিকেট বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে মোসলেম নামের এক ব্যাক্তি ও তার সঙ্গী সাথীরা। ঈদের পরের দিন থেকে হঠাৎ তারা টিকেট বিক্রি শুরু করে ১০ টাকা দামে। কিন্তু টিকেটের গায়ে মূল্য লেখা রয়েছে ৫ টাকা। কেউ ১০ টাকা দিতে না চাইলে তাদের সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করেন ইজারাদারের লোকজন। সরেজমিনে দৈনিক পর্যবেক্ষণের ক্যামেরা উঠে আসে দ্বিগুন টাকা আদায়ের বিষয়টা। 

সরেজমিন প্রদর্শনের সময় একাধিক লঞ্চ যাত্রীর সাথে কথা হয় পর্যবেক্ষণের। তারা জানান, ঘাট টিকেটে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নিজ বহন করার মত মালামালের জন্যও ঘাট খরচ নেয়া এখন ওপেন সিক্রেটের মত। অবৈধ কাজটাকে বৈধ করে ফেলেছে ঘাটের লোকজন। জনগণের এই ভোগান্তি দেখার কেউ নেই। 

নূরে আলম সিদ্দিক নামের একজন যাত্রী বলেন, টিকেটে মূল্য লেখা ৫ টাকা। আমি ৫ টাকা দিতেই হঠাৎ একজন ক্ষিপ্ত হয়ে চিল্লাতে থাকে আমার সাথে। চিল্লাতে চিল্লাতে বলেন ঘাটে কি নতুন আসছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আমাকে ১০ টাকা দিতে হয়। 

শাহিনা পারভিন নামের একজন যাত্রী বলেন, টিকেটের মূল্য বিষয় না, ইজারাদার যেটা চাইবে সেটাই দিতে হবে এটাই বিষয়। আমরাতো সাধারণ মানুষ তারা ক্ষমতাসীন। 

টিকেট বিক্রির দায়িত্বে থাকা মোসলেম বলেন, ঈদ উপলক্ষে বকশিস হিসেবে একটু বেশি নেয়া হচ্ছে। কিছুদিন পরে আবারো ৫ টাকাতেই টিকেট বিক্রি হবে। তবে আমাদের কেউ যদি যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করে থাকে সেটা ভুল হয়েছে। বিষয়টি দেখবো। 

শনিবার (৭ মে) বিকেলে দ্বিগুন টাকা আদায়ের সময় ঘাটেই উপস্থিত ছিলেন ঘাটের ইজারাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসের বাচ্চু। কিন্তু বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ওদের ৫ টাকার বেশি নিতে নিষেধ করেছি। 

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন জানান, নুরাইনপুর ঘাট ইজারা দেয় জেলা পরিষদ। এটা উপজেলা প্রশাসনের অধীনে নয়। তবে যাত্রী হয়রানির বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। 

এমএসি/আরএইচ