'মুড সুইং’ হয় যে কারণে

মঙ্গলবার ৯ আগস্ট ২০২২ ১৪:৫৮


হঠাৎ করে মানসিক অবস্থার তীব্র পরিবর্তন। এই অবস্থায় একজন ব্যক্তি আকস্মিক ভাবে সুখাবস্থা আ আনন্দিত অবস্থার বোধ থেকে দুঃখ, খিটখিটে বা রাগ অনুভব করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের চারপাশের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থা থেকে-ই আমাদের মেজাজ পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলো তৈরি হয়।

মানুষের মেজাজ হঠাৎ পরিবর্তন হতে পারে, যদি 

    ১.আবাসস্থান পরিবর্তন করা হয়
    ২.চাকরি পরিবর্তন হলে
    ৩.মানসিক চাপ অনুভব করলে
    ৪.পর্যাপ্ত ঘুম না হলে
    ৫. সময় মত ঠিকঠাক খাবার না খেলে
    ৬. মেজাজ বা ঘুমকে প্রভাবিত করে এমন ড্রাগ গ্রহণ করলে প্রভৃতি।

মনে রাখতে হবে, এইসব কারণগুলো পুরুষ কিংবা মহিলা উভয়কে-ই প্রভাবিত করতে পারে। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে আর-ও কিছু জটিলতা আছে, তা বলা আবশ্যক।

    ১.Bipolar disorder
    2.MDD
    3. Cyclothymia
    4.PDD, BPD
    5. Schizophrenia
    6. Substance misuse or abuse (ADHD)
    7.Excessive alcohol or DMDO drugs.

   মহিলাদের ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা, মেনোপোজের সময় বিশেষ বিশেষ হরমন নিঃসরণের কারণে হঠাৎ হঠাৎ মেজাজ পরিবর্তন হতে পারে। ঋতুস্রাব শুরু হবার কয়েকদিন আগে থেকেই মহিলাদের স্তন ভারী হয়ে আসে, শারীরিকভাবে দুর্বল অনুভব হয়, বিষণ্ন লাগে, ঘনঘন ক্ষুধা লাগে। পরিসংখ্যান বলে, প্রায় ৯০% মহিলাদের এই উপসর্গগুলো দেখা দেয়।

গর্ভকালীন মেজাজ: গর্ভাবস্থায় হরমোন জনিত কারণে হঠাৎ হঠাৎ মেজাজ উঠানামা করতে পারে। সেই সাথে উদ্বেগ আর দুর্বলতা একজন মহিলাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
এই পরিবর্তন প্রথম ও ত্রৈমাসিকে তীব্র হতে পারে; যদিও শরীরের সাথে নতুন হরমোনগুলো খাপ খেয়ে গেলে এসব কেটে যায়।

যাইহোক, কোন কোন মহিলা তাঁর পুরো গর্ভকালীন সময় জুড়ে মেজাজে খুব পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন। 

মেনোপোজে মেজাজ:

মেনোপোজ হলো মাসিকচক্রের চির অবসান দশা; এরপর মহিলাদের আর ঋতুস্রাব/মাসিক হয় না। বাংলাদেশের মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪৫ হতে ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত এর সীমা টানা যায়; গড় ৫০ বছর। আমাদের দেশের প্রায় ৪৬% মহিলা মেনোপোজের সময় বা পরে মেজাজের তীব্র পরিবর্তন অনুভব করেন। অন্যান্য উপসর্গের ভেতর রয়েছে রাগারাগী, ঘুমের সমস্যা, কর্মশক্তি হ্রাস। 

চিকিৎসা:
সাধারণত মেজাজের উঠানামার জন্য কোন চিকিৎসার দরকার হয় না। জীবন ব্যবস্থার মান পরিবর্তন, স্বাদ এবং খাদ্য মেন্যুর পরিবর্তনে-ও কাজ হতে পারে।

তবে মেজাজ সংকটজনক অবস্থায় পরিবর্তিত হলে, মানে নিয়মিতভাবে, তীব্রভাবে, জীবনের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যহত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। 

সাইকোথেরাপি:

যদি মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে মেজাজের পরিবর্তন হয় এবং এর ফলে এটা দৈনন্দিন জীবন বা সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে, তবে অবশ্যই সাইকোথেরাপি সহায়ক হতে পারে।
ভুক্তেভোগীদের জন্য পরামর্শ:

    ১. আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন!
    ২. যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করুন, প্রতি নিয়ত নিজের উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করুন; এসব বিদ্যমান সম্পর্ককে প্রভাবিত কর

    ৩. মেজাজ পরিবর্তনের সুইচ হিসেবে কাজ করে, এমন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন!
    ৪. নিয়মিত ঘুমের চেষ্টা করুন!
    ৫.স্বাস্থ্যকর খাবার এবং স্বাস্থ্যকর অনুভূতির সঙ্গ নিন।
    ৬. শারীরিক ব্যায়াম, মানসিক ব্যায়াম, নিয়মিত পড়াশোনা করুন!

এমএসি/আরএইচ