প্রধানমন্ত্রীর ছবি সরিয়ে নিজের ছবি লাগিয়ে আ'লীগ নেত্রীর প্রচারণা

মঙ্গলবার ১১ জানুয়ারী ২০২২ ১০:৩৭


মিশু সিকদার,বাউফল প্রতিনিধি :

আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে পটুয়াখালীর বাউফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে আওয়ামীলীগ নেত্রী নিজের মুখের ছবি লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই আওয়ামীলীগ নেত্রীর নাম মোসা. নিলুফা ইয়াসমিন। তিনি উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (একাংশের) সভাপতি

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুয়ায়ি আগামি ৭ ফেব্রুয়ারি বাউফল উপজেলা সদর,দাসপাড়া, মদনপুরা ও নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের দিন ধার্য রয়েছে। এ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদে ওই চার ইউপিতে প্রার্থী ঘোষণা করেন।

দাসপাড়া ইউপিতে নিলুফা ইয়াসমিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু ওই ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেন।

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন নিলুফা ইয়াসমিন। এরপর তাঁর একটি ছবি দিয়ে তাঁর স্বজন ও সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালাতে শুরু করে। এমনকি ওই ছবি দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ আ স ম ফিরোজের ভাতিজা মাইনুদ্দিন জিপুও তাঁর আইডি থেকে দোয়া চেয়ে পোষ্ট দিয়েছেন। নিলুফা ইয়াসমিনের ছেলে দাসপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি (একাংশ) আতিকুর রহমান ওরফে মোহনের ফেসবুক আইডিতেও দেখা যায়। ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
মাইনুদ্দিন জিপু বলেন,‘আমি অন্য একটি ফেসবুক আইডি থেকে ছবিটি নিয়ে পোষ্ট দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর ছবি অ্যাডিট করে ছবিটি দেওয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ওই ছবিটি ছিল ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির। ওইদিন বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি জনসভায় বক্তৃতা করেন। সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে নেতা-কর্মীদের হাত নেঁড়ে শুভেচ্ছা জানানোর সময় ছবিটি তোলা হয়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

ওই ছবি থেকে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছবি বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবি অ্যাডিট করে নিলুফা ইয়াসমিনের মুখের অংশ প্রধানমন্ত্রীর মুখের ওপর লাগিয়ে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করা হয়। ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিধেয় কাপড়, হাতের চুরি ও অনামিকা আঙুলে পরা রিঙের হুবহু মিল রয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন,‘এটা বড় ধরনের প্রতারণা। এ ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে নিলুফা ইয়াসমিনের মুঠোফোনে কল করলে তিনি ধরেননি। তাঁর ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান বলেন,কে বা কারা এ কাজ করেছেন তা তিনি এবং তাঁর মা জানেন না। তাহলে আপনার ও অপনাদের স্বজনদের ফেসবুক আইডিতে এই ছবি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর দেননি তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন,‘যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অ্যাডিট করা ছবি আওয়ামী লীগ নেত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের স্বজনদের আইডিতেও আছে। তাই এর দায় নিলুফা ইয়াসমিন এড়াতে পারেন না। দলীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন,‘বিষয়টি এখনও আমার নজরে পড়েনি,খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএসি/আরএইচ