পদ্মা-ধুমকেতু কমিউটার ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেই

সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২ ১৭:০৬


ফেরদৌস সিহানুক শান্ত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রায় ২ বছর হয়ে আসলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আন্তঃনগর ট্রেন পদ্মা ও ধুমকেতু’র সংযোগসহ অন্য ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে না রেলকর্তৃপক্ষ। রেলকর্তৃপক্ষের খোঁড়া যুক্তি ইঞ্জিন আর কোচের সংকট থাকায় এ ট্রেনগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২০২০ সালের ২৪ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় রেলকর্তৃপক্ষ।

পুনরায় ২০২০ সালের ১ আগস্ট রাজশাহী থেকে পদ্মা ও ধুমকেতু চালু হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাথে সংযোগ হিসেবে কমিউটার ট্রেন আর চালু না হওয়ায় যাত্রীরা এখনো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এ জেলার যাত্রীদের সুবিধার্তে পদ্মা ও ধুমকেতু’র সংযোগ হিসেবে দুপুর ২টা ৪০ মিনিট ও রাত ৯টা ৪০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী কমিউটার ট্রেন চালূ করা হয়েছিল। সেটি যেন আর আলোর মুখ দেখছে না। এ অঞ্চলের মানুষের রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অবাধে যাতায়াত তাদের নাগরিক অধিকারেরই অংশ।

শুধু বনলতা ছাড়া আর কোন ট্রেন চালূ নেই। এমনকি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-খুলনা-যশোর-পাবনা ট্রেন সার্ভিস অকার্যকর থাকায় এ অঞ্চলের অধিবাসীরা যাতায়াতে বাধাগ্রস্ত ও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। রেলের উন্নয়নের যতই ফিরিস্তি আসুক না কেন, ট্রেন চলাচল থেকে চির অবহেলিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জনগণকে বঞ্চিত রেখে রেলের কোনো উন্নয়ন সম্পূর্ণ ও সার্থক হতে পারে না।

অর্থাৎ নতুন ট্রেন চালুতে রেল কর্তৃপক্ষ প্রকৃত অগ্রাধিকার অগ্রাহ্য করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-রহনপুর অংশের পুনর্বাসন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি। এও শোনা গিয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ-পাবনা পর্যন্ত পাবনা নামে এক্সপ্রেস চালুর কথা ছিল।
এমনকি অভিযোগ পাওয়া গেছে গত বছরের শেষদিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রেলবস্তির কতিপয় বখাটে যুবক পিকনিক করার ফাঁকে মদ্যপ অবস্থায় ষ্টেশনে অবস্থানরত কয়েকজন মহিলা যাত্রীকে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করলে তারা প্রতিবাদ করলে তাদের হেনস্তা করার চেষ্টা করে।

পরে জিআরপি পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে একপর্যায়ে ষ্টেশনের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে পালিয়ে যায়। এ সংক্রান্ত রাজশাহী জিআরপি থানায় তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ অবস্থায় জরুরী হয়ে পড়েছে ট্রেন যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ।
জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম জানান, রেলকর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ট্রেনগুলো চালু করছে না। যা আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার সামিল। তিনি আরো বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্টেশনের সুরক্ষিত করার বিবেচনায় সীমানা প্রাচীর জরুরী হয়ে পড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ জানান, যেহেতু সরকার দলীয় এমপি না থাকায় বর্তমান এমপি তেমন ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

এরপরও রেলমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্ত করোনার কারণে স্বশরীরে যোগাযোগ করতে পারা যাচ্ছে না। তবে, স্বাভাবিক সময় হলে রেলমন্ত্রীর সাথে কথা বলে ট্রেনগুলো চালৃুর ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, ইঞ্জিন ও কোচ সংকট থাকায় এ ট্রেনগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, চাহিদানুযায়ী পাওয়া গেলে ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করা হবে।

এমএসি/আরএইচ