পথশিশুদের বোঝা নয়, আগামীর কাণ্ডারী করে তুলতে হবে

বৃহস্পতিবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:১৩


আজকের শিশুরাই আগামীর কর্ণধার। শিশু শব্দের সাথে জড়িয়ে আছে মায়া, মমতা, ভালবাসা, আদর, স্নেহ।

কিন্তু সেই শিশুদের যখন কেউ চোখের সামনে টোকাই,রাস্তার ছেলে,বস্তির ছেলে এসব বলে ডাকে তখন বুকের ভেতরে কষ্ট অনুভব হয়।কেউ পথশিশু হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। সামাজিক পরিস্থিতি তাদের পথশিশু করে গড়ে তুলে। তাই তাদের বোঝা নয়,আগামীর কর্ণধার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকায় দিন দিন পথশিশুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।লেখা লিখিও হচ্ছে অনেক।কিন্তু তার পরেও সুশীল সমাজের টকন নড়ছে না।কিংবা তাদের উন্নয়নে নেয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ। আসলে পথশিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হলো দারিদ্র্য, শিক্ষা সচেতনতার অভাব,অজ্ঞাতা,মূর্খতা এবং অপরিকল্পিপ ভাবে সন্তান জন্ম দেয়া। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং কোন্দল বা পারিবারিক ভাঙ্গনের  ফলেও বিভিন্ন অঞ্চলে পথশিশুদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।এই সব পথশিশুরা ফুল বিক্রি করে। কুলি, হকার, রিকশা চালক, আবর্জনা সংগ্রাহক, ইট-পাথর ভাঙ্গা, হোটেল বয়, বুননকর্মী, মাদক বাহক, বিড়ি শ্রমিক ও কলকারখানার শ্রমিক ইত্যাদির কাজও করে থাকে।

যে বয়সে তাদের হাতে বই খাতা থাকার কথা সেই বয়সে তাদের হাতে প্লাস্টিকের বস্তা ওঠে।যে বয়সে তার স্কুল ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই বয়সে তারা নিজের নিজের পেট চালানোর দায়ভার নিয়ে থাকে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়,পথশিশুদের ৫১ ভাগ ‘অশ্লীল কথার শিকার' হয়৷ শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয় ২০ শতাংশ৷ সবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির শিকার হয় মেয়েশিশু৷ ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়৷ আর মেয়ে পথশিশুদের মধ্যে ৪৬ ভাগ যৌন নির্যাতনের শিকার৷

আবার পথশিশুদের অনেকেই  মাদকাসক্ত হয়ে রাস্তায়ই মারা যায়। কেউ কেউ বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে পাচার হয়ে যায় বহু দেশে।যারা পাচারের শিকার হয়, তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি হয় বিভিন্ন দামে।বিভিন্ন ধরনের অকল্পনীয়  নির্যাতনের শিকার হয় তারা। যারা মেয়ে, তাদের সাথে  যৌন নির্যাতনের চেয়েও খারাপ কিছু করা হয়। অঙ্গ- প্রতঙ্গ কেটে ফেলা হয়।এছাড়াও, অপরাধীচক্রগুলো এদের মাদকসহ নানা অবৈধ ব্যবসায় কাজে লাগায়। এরা আসলে অপরাধী নয়,এরা অপরাধের শিকার হয়।পথশিশুদের ঘুমানোর কোনো বিছানা নেই, তারা গোসল করতে পারে না, খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে, অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই এবং অসুস্থ হলে ডাক্তারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারে না তারা।

এক গবেষণায় দেখা যায়, ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকে। এদের মধ্যে ২৯ শতাংশ শিশু স্থান পরিবর্তন করে বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কারণে আর ৩৩ শতাংশ পাহারাদারের কারণে। খোলা আকাশের নীচে ঘুমানোর পরও তাদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ শিশুকে মাসিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা গ্যাং পার্টিকে দিতে হয়।

এছাড়াও পথশিশুরা বিভিন্ন পেটের পীড়ায় ভোগে,বেশিরভাগই চর্মরোগে আক্রান্ত। তাদের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করলেও  দিন শেষে তারা সেই রাস্তায় গিয়েই শুয়ে পড়ে।তাদের আবাসস্থল হয়ে ওঠে রাস্তা, ফ্লাইওভার কিংবা রেললাইন। 

তাই পথশিশুদের জন্য টেকসই উন্নয়নের পরিকল্পনা নিতে হবে। তাদের সুস্থ ও সুন্দর ভাবে বেচে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।ঢাকা শহরে অনেকে বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ  এই পথশিশুদের জন্য কাজ করে। সরকারি কিছু উদ্যোগও আছে৷ সরকারকে  তাদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।তাদের শিক্ষা, থাকার স্থায়ী জায়গা এবং খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে৷এই পথশিশুদের নিয়ে প্রথমে একটা সঠিক সার্ভে বা রিয়েল স্টাডি করতে হবে৷ আর সেই স্টাডির ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এই পথশিশু দের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল করতে হবে। নাইট কেয়ার স্কুল এর ব্যবস্থা করতে হিবে।তারা যেন দালাল চক্রের হাতে না পড়ে সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে আজকের পথ শিশুটিই একসময় বড় বিজ্ঞানী, মহান শিক্ষক, চিকিৎসক, জনপ্রিয় খেলোয়াড় বা চৌকস রাজনীতিক হয়ে উঠতে পারে। তাই দেশ ও জাতির মঙ্গলের কথা মাথায় রেখেই আমাদের পথ শিশুদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে

প্রত্যেকটি পথশিশুকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার। তাদের প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করে নীতিবান, সৎ, কর্মদক্ষ ও সচেতন নাগরিক তথা রাষ্টের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

স্বাধীন দেশে পথশিশুদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হওয়ার অধিকার আছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এ মৌলিক চাহিদাগুলো যথোপযুক্তভাবে পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে। তাই পথে অবস্থানকারী শিশুরা যাতে তাদের পিতামাতা অভিভাবক বা পরিবারের ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

 

আবির হাসান সুজন 

ভুমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় 

ইমেইল - [email protected]

 

এমএসি/আরএইচ

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু হল লায়ন্স আই ইনস্টিটিউটের

চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু হল লায়ন্স আই ইনস্টিটিউটের

বাউফলে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি; অডিও ভাইরাল

বাউফলে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি; অডিও ভাইরাল

চুনারুঘাটে ৪ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২ টি ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিমান প্রতিমন্ত্রী

চুনারুঘাটে ৪ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২ টি ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিমান প্রতিমন্ত্রী

জেসিআই ঢাকা ইয়াংয়ের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা

জেসিআই ঢাকা ইয়াংয়ের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালককে গুলি

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালককে গুলি

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা আজ

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা আজ

কেরাণীগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

কেরাণীগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

নোয়াখালীতে ১হাজার ইয়াবা সহ গ্রেফতার ৩

নোয়াখালীতে ১হাজার ইয়াবা সহ গ্রেফতার ৩

সেনবাগ উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক মানিক

সেনবাগ উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক মানিক

বড়লেখায় শ্রমিক পরিবারের অসুস্থ রোগীকে নিসচার আর্থিক অনুদান প্রদান

বড়লেখায় শ্রমিক পরিবারের অসুস্থ রোগীকে নিসচার আর্থিক অনুদান প্রদান