কারামুক্ত হয়ে ফেরার পথে আ.লীগ নেতার গাড়িবহরে হামলা

বৃহস্পতিবার ৪ আগস্ট ২০২২ ২১:২৪


আবু রায়হান, জয়পুরহাটঃ
সদ্য কারামুক্ত হয়ে বগুড়া জেলা কারাগাড় থেকে জয়পুরহাট শহরের নিজ বাড়িতে ফেরার পথে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর এর গাড়ী বহরে হামলার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জাানিয়ে সংবাদ এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৪ আগষ্ট) দুপুরে জেলা শহরের আলহেরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে অনুঠিত সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর তার বক্তব্যে বলেন, আমি গত কয়েক মাস পূর্বে এমপি প্রার্থী হিসেবে জয়পুরহাট-০২ আসনে আওয়ামী লীগের দলীও মনোনয়ন প্রত্যাশা করে ঘোষণা করেছিলাম। এরপরই আমার এবং আমার পরিবারের উপরে বিভিন্ন ভাবে মামলা ও অত্যাচার নেমে এসেছে। 
ষরযন্ত্র করে আমার আয় এবং সম্পদের হিসাব উল্লেখ করে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮২১ টাকা গড়মিল দেখিয়ে সস্ত্রীক আমার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা করানো হয়। সেই মামলায় ৬৬ দিন কারাভোগের পর গত (০৩ আগষ্ট) বুধবার কারামুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পথে জয়পুরহাট-২ আসনের সাংসদের বিশ্বস্থ সহচর কালাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলনের লোকজন পুলিশের সামনেই গাড়ি বহরে হামলা করে। মামলা হামলার পাশাপাশি আমি মনে করি যেকোনো মুহূর্তে আমার জীবনও চলে যেতে পারে। আমাকে হত্যা করা হতে পারে তবুও আমি ক্ষান্ত হবোনা। দলীও মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছি,  মৃত্যু পর্যন্ত আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার হয়ে কাজ করবো। নেত্রী যদি ভালো মনে করে আমাকে মনোনীত করে তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবো। আর যদি না দেয় তাহলে তিনি যাকে মনোনীত করবেন আমি তাকে বিজয়ী করতে কাজ করবো।
তিনি আরও বলেন, আমি অবসর চৌধুরী একদিনে এখানে আসিনাই । আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, একজন সাংবাদিকের সন্তান, একজন আওয়ামী লীগের কর্মী ও নেতার সন্তান, একজন জনপ্রতিনিধির সন্তান। জন্মলগ্ন থেকেই মা বলতে শিখেছি,বাবা বলতে শিখেছি, সাথে সাথে জয় বাংলা বলতে শিখেছি। আমার ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে রাজপথে লড়াকু সৈনিক হিসেবে কাজ করেছি। জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে সালে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। তারপর জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি এবং আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দলকে অত্র এলাকায় সুসংগঠিত করেছি এবং বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
আমার বাবা মরহুম গোলাম রসুল চৌধুরী জয়পুরহাটে প্রথম একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। পত্রিকাটির নাম সাপ্তাহিক গণবাংলা। মুক্তি যুদ্ধের সময় তিনি ভারতে থেকে পত্রিকাটির সম্পাদনা করে ছাপিয়ে মুক্তি যোদ্ধাদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে বিতরণ করে তাদের উদ্বুদ্ধ করতেন। ওই পত্রিকাটি জাতীয় জাদুঘরে স্থান করে নিয়েছে।  তিনি আওমীলীগের নিবেদিত একজন প্রাণ কর্মী ও জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমার বাবাকে এমপি মন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করার কথা বললে তিনি সেটি তার মুখের উপর  প্রত্যাখ্যান করেন। সেজন্য আমার বাবার উপরে তৎকালীন সময়ে বহু মামলা হামলা করা হয়েছিল। তবুও তিনি পিছুপা হননি। আমি সেই বাবার সন্তান।
অপরদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কালাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, তার বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও
ভিত্তিহীন।
কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, 
 অতি উৎসাহি কিছু লোকজন গারিতে ইট-পাটকেল ছুড়ে মেরেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সেখানে কাউকে দেখতে পায়নি।                                    

এমএসি/আরএইচ