কাবিননামা ৫ হাজার টাকা মাত্র

সোমবার ১০ জানুয়ারী ২০২২ ২৩:৩২


রইসুল ইমন

সিলেট জেলার হবিগঞ্জ উপজেলার একজন অদম্য তরুণী সানজানা শিরিন। সামাজিক কাজকর্মের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিঁনি বেশ পরিচিত। সানজু নামেই বেশিরভাগ মানুষ চেনেন তাঁকে। গত ৭ জানুয়ারি খুলনা জেলার মো. ইসমাঈল শিকদার ও সানজানা শিরিন  বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। দুজনেই বর্তমান সমাজের তথাকথিত নিয়ম ও কুসংস্কারে একদমই অবিশ্বাসী। দুজনেই ছোট চাকুরী করেন। সানজানা শিরিন সিলেটের মৌলভীবাজারের একটি হাসপাতালে চাকুরি করেন এবং মো. ইসমাঈল শিকদার বগুড়া জেলায় একটি কোম্পানির কর্মকর্তা। দুজনের চিন্তা ভাবনায় আছে ব্যাপক সামঞ্জস্যতা। এবং দুজনের এই ইতিবাচক চিন্তার মধ্য দিয়েই বিয়ের সিদ্ধান্তে পৌছেছেন তাঁরা। আনুষ্ঠানিক ভাবে ৭ জানুয়ারিতে বিয়েটা হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সানজানা'র একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে আজ।সানজানা শিরিনের ইচ্ছাতেই এই বিয়ের কাবিন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা। আজ সোমবার (১০ জানুয়ারি) তাঁদের ৫ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ওয়ালে পোস্ট করেছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। 
 
সিলেট জেলা হবিগঞ্জের মেয়ে সানজানা শিরিন নিজের ফেইজবুক প্রোফাইলে একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন- 
---আমার চাওয়া ছিলো "বেশি টাকা কাবিন করে ডিভোর্স হলে অনেক টাকা বসে বসে খাওয়ার মত দুর্ভাগ্য যেন আল্লাহ আমাকে না দেন "
 
আমি আল্লাহর কাছে এটাই চাইছি যেহেতু আমরা ২জনেই ছোট জব করি আল্লাহ জাস্ট আমাদের সুস্থ রাখলেই হবে পরিশ্রম করলে টাকা আসবে আমাদের কাছে ইনশাআল্লাহ 
 
৫ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ে গ্রামে গঞ্জে আমার এই বয়সে শুনি নাই, এই কথা শুনে মুরুব্বিরা মাতামাতি শুরু করে দিসেন। এটা কিভাবে সম্ভব 
 
প্রচুর মাতামাতি হচ্ছিলো,ঝামেলা শুরু হয়ে গেছিলো 
কাজীকে ডেকে আমি আনলাম, বুঝিয়ে বললাম 
 ইসলামে ত ১০ দিরহাম মানে ৩ হাজার এর মত কাবিন দেওয়ারও সুযোগ আছে 
 
আর আমরা তথাকথিত সামাজিক রীতির বাইরে বের হতে চাই 
আমরা কম কাবিনেই বিয়ে করব। 
  
তখন কাজী সাব বললেন "তুমরা রাজি হলে আমার কোন সমস্যা নাই "
 
আমার কথা হল "বিয়ের আগেই কেন ডিভোর্সের চিন্তা করতে হবে???
 
বিয়েতে আল্লাহর রহমত থাকলে বেশি টাকার কাবিন আমার জীবনে প্রয়োজন নাই 
 
সব কিছুর জন্য মহান আল্লাহর নিকট শোকরিয়া 
জামাই- Md Ismail Sikder---
 
এ বিষয়ে মুঠোফোনে দৈনিক পর্যবেক্ষণকে সানজানা শিরিন জানান, তিঁনি সবসময়ই সমাজে নিয়মের বাইরে গিয়ে বাস্তব কিছু করার চেষ্টা করেছেন। বিয়ে একটি আনন্দের বিষয়, তাই বিয়ের আগেই ডিভোর্সের চিন্তা করতে চান না তিঁনি। দুজনে সুখি থাকাটা প্রধান বিষয়, কাবিনটা বড় বিষয় না। খুবি সাদামাটা পরিবেশে সামাজিক ভাবে বিয়ে করেছেন তাঁরা। তাঁদের বিয়েতে কোন ধরনের উপকৌটন নেয়া হয় নাই৷ জামাইয়ের পক্ষ থেকে কোন অলংকারও গ্রহণ করেন নাই তিঁনি। 
 
উল্লেখ্য, এই বিয়ের প্রীতিভোজে আসা কেউই উপহার দিতে পারেন নি তাঁদের। গেটে শুভেচ্ছা বার্তায় লেখা ছিলো " ইসমাঈল ও শিরিনের এর শুভ বিবাহ। কোন ধরনের উপহার গ্রহণযোগ্য নয়, দোয়াই কাম্য। "
 
 

এমএসি/আরএইচ