কর্মীকে পিটিয়ে বেতন কেড়ে নেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ৩

শুক্রবার ১০ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:৪৭


:: ফেরদৌস সিহানুক শান্ত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ::
 
তিন মাসের বকেয়া বেতন দিয়ে কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে কেড়ে নেয়ার ঘটনায় বেসরকারি সংস্থা ইলেকট্রন টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপকসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (০৯ ডিসেম্বর) রাতে ব্যবস্থাপক ও দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীনগর রেলবস্তি এলাকায় মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইলেকট্রন টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার জুম্মা হাট গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে হামিদুর রহমান (২৫), প্রিপেইড মিটার স্থাপন কাজের কর্মী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আলিনগর প্রান্তিকপাড়া এলাকার মো. কাশেমের ছেলে আলামিন (২১) ও রাজশাহীর পবা থানার বায়া এলাকার মো. হেলাল। 
 
গত সোমবার হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন ইলেকট্রন টেকনোলজিস লিমিটেডের সুপারভাইজার শাহরিয়ার ইমন সোহেল (২৪)। তিনি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার নিমদীঘি গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই দিন রাতেই তাকে আধুনিক সদর হাসপাতালে নেন স্থানীয়রা। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 
এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার (০৭ ডিসেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন আহত সোহেলের ভাই ফেরদৌস সিদ্দিকী। এই মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মাহফুজুল হক চৌধুরী জানান, হামলায় আহতের শিকার শাহরিয়ার ইমন সোহেলের ভাই ফেরদৌস সিদ্দিকির দায়ের করা মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে আসামীদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। 
 
থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সিনজেন্ট স্টার ইনস্ট্রুমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের হয়ে নেসকোর প্রিপেইড মিটার সংযোজন কাজ করছিল আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রেন টেকনোলজিস লিমিটেড। সেখানে সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্বপালন করিছলেন শাহরিয়ার ইমন সোহেল। সোহেল এবং তার ইউনিটের তিন মাসের বেতন-বিল বেকেয়া রেখেছিলেন ব্যবস্থাপক হামিদুর রহমান। চাইলেই নানারকম তালবাহানা শুরু করেন।
 
৬ ডিসেম্বর বকেয়া বেতন দেওয়ার নাম করে সোহেলকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেকে নেন হামিদুর। নিজ এলাকার বাসিন্দা ও ইলেকট্রন কর্মী রহমত আলীকে সাথে নিয়ে পাওনা টাকা নিতে যান সোহেল। দিনভর কৌশলে বসিয়ে রেখে সন্ধ্যায় ২০ হাজার ৭০০ টাকা দেন হামিদুর। বাকি টাকা পরে দেয়ার আশ্বাস দেন। টাকা নিয়ে ফেরার পথে হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে শাহরিয়ার ইমন সোহেলের ওপর হামলা হয়। পেছন থেকে তার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে সন্ত্রাসীরা। পড়ে যাবার পর ইট দিয়ে তার বাম হাত থেঁতলে দেয়। সঙ্গে থাকা মোট ৩০ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেন হামিদুর।
 
 

এমএসি/আরএইচ