ইবিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উচ্চশব্দে ক্লাস-পরীক্ষা বিঘ্নিত

বৃহস্পতিবার ১৩ জানুয়ারী ২০২২ ০১:১৮


ইবি প্রতিনিধি 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা বিভাগের আয়োজনে পৌষ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে বুধবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল একাডেমিক ভবনের সামনে পিঠা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের গান বাজনার উচ্চশব্দ ক্লাস-পরীক্ষায় ব্যাঘাত করেছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পৌষ উৎসব শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বাংলা মঞ্চে অনুষ্ঠানের জায়গা নির্ধারিত করা থাকলেও রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের প্রবেশদ্বারে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সকাল ১১ টায় র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. সরওয়ার মোর্শেদ।

উৎসবে বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৩৭ রকমের পিঠা প্রদর্শন করে। হরেক রকমের পিঠার মধ্যে রয়েছে প্রেমপত্র পিঠা, ঝাল পাটি সাপটা, পিংক পিঠা, ভালবাসার গোলাপ, নকশী, দুধ সরু, পাতা নকশী, পাতা ,ঝাল পুলি, বিস্কুট , বরফি, পায়েস, ডিম সুতি, নকশী, পাটি সাপটা, বকুল, শঙ্খ, শুকনো, সিদ্ধ কুলি, দুধ চিতই এবং পায়েস পিঠা। পিঠার স্টলে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে পিঠা প্রদর্শনীর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভাগের ও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। এসময় রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবন, পার্শ্ববর্তী অনুষদ ভবন ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা চলমান ছিলো। ক্লাস পরীক্ষা চলাকালে উচ্চস্বরে গান বাজানোর ফলে বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়।

রাশেদ জোয়াদ্দার নামের এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, 'শব্দ দূষণ একাডেমিক সময়ে আশা করিনা, পরীক্ষা চলে আর অন্যদিকে উচ্চস্বরে গান চলে!'

আব্দুল্লাহ আল বাকি নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এতটুকুও বিবেকবোধ জাগ্রত হয়নি! আশেপাশে সবার কমবেশি পরীক্ষা, সেই সময়ে এত উচ্চস্বরে গান বাজালে সমস্যা হতে পারে তা বুঝে না?”

ফেরদৌসী নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, 'একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের এরকম সভ্যতা আশা করা যায় না। শেক পাড়ার মূর্খ জনগোষ্ঠীর আর এদের মাঝে তফাৎ দেখিনা। এতো গান বক্স বাজানোর কি আছে?'

মঞ্জুর কাদের বলেন, 'অনুষদ ভবন, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবন আর এদিকে সাদ্দাম হোসেন হল এই শব্দ দূষণে জর্জরিত। বিকট শব্দের কারণে না পারছি শান্তি করে পড়তে না পারছি ঘুমাতে।'

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর গাজী মাহবুব মুরশিদ বলেন, 'এটা বিভাগের উদ্যোগে কোন প্রোগ্রাম ছিল না। শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল সাংস্কৃতিক কমিটির সদস্য ছিলেন। আমি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় কোন বিভাগের অসুবিধা হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে খোঁজ নিতে পারিনি। তবে অন্য বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষার সমস্যা সৃষ্টি করে এগুলো করা উচিত হয়নি।'

এমএসি/আরএইচ